
“মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতিগঠনমূলক লেখালেখিকে আমি আমার ইবাদত বলে মনে করি। ইবাদতে ফাঁকি দিলে যেমন পাপ হয়, এই লেখালেখির কাজে ফাঁকি দিলেও সেরকম পাপ হবে বলে আমি মনে করি।” কথাগুলো একজন লেখকের, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার। ১৯৭১ সালে যুবক বয়সে জীবন বাজি রেখে যিনি যুদ্ধে গিয়েছিলেন দেশকে স্বাধীন করবেন বলে। বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক। জীবনের সাত দশকের বেশি সময় পেরিয়ে এসেও যিনি দেশের কথা, দশের কথা ভেবে লিখে চলেছেন বিরতিহীনভাবে। জিয়াউল হক দায়িত্ব নিয়েছেন কঠিন ধারার লেখালেখির। যে লেখায় শ্রম আর সময় দিতে হয় অনেক বেশি। মানুষের কাছে ছুটে যেতে হয়। দেশের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হয়। যথেষ্ট অর্থ ব্যয় হয়। বিচ্ছিন্নভাবে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কঠিন অধ্যায় পার করে সত্যতা-শুদ্ধতা নিশ্চিত হতে হয় নিবিড় গবেষণার মধ্য দিয়ে। তারপর পাঠকের জন্য প্রস্তুত করা হলেও জনপ্রিয় ধারার না হওয়ায় অল্প সময়ে অনেক বেশি ছড়িয়েও পড়া যায় না। তবে ইতিহাসের অমূল্য দলিল হয়ে টিকে থাকবে তাঁর এইসব কর্মযজ্ঞ, সেকথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
জিয়াউল হক যুবক বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। দেশের জন্য লাল সবুজের পতাকা অর্জনে অস্ত্রহাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিজের পড়াশোনায় ফিরেছেন। তারপর সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রেখেছেন সততার সাথে। সারাজীবন একটি নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে তিনি চলেছেন, এখনও চলছেন।
মানুষকে আপন করে নেওয়ার এক বড় গুণের অধিকারী জিয়াউল হক একজন ন্যায়পরায়ণ মানবিক মানুষ। একজন দক্ষ সংগঠক। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকেন সাধ্যের সবটুকু নিয়েই। শিল্প সাহিত্যের সেবায় সাংগঠনিকভাবে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
জিয়াউল হক লেখক। এতটুকু বললে তাঁর লেখালেখির গভীরতা এবং গুরুত্ব কিছুই বোঝা যায় না। আমাদের মতো দায়সারা লেখক নন তিনি। জিয়াউল হক সিরিয়াস লেখক এবং পরিশ্রমী লেখক। তিনি লেখেন দায়বদ্ধতা থেকে। মুক্তিযুদ্ধের যে-সব ইতিহাস কেউ কোনোদিন লিখতো না হয়ত, সেইসব ইতিহাস তিনি খুঁজে খুঁজে মলাটবদ্ধ করে চলেছেন।
আবার কেবল মুক্তিযুদ্ধই না, তাঁর লেখার বিষয় বৈচিত্র্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ। জিয়াউল হক লিখেছেন হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ইতিহাস। লিখেছেন গিরিঝরনা বাংলাদেশ। তিনি লিখেছেন বাংলাদেশের পাহাড়শুমারি। এরকম বৈচিত্র্যময় বিষয়ে গবেষণা করা এবং সেসবকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা মোটেও সহজ কাজ না। জিয়া ভাই সেই কঠিন কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবে। এসবের পাশাপাশি কবিতাও লিখে চলেছেন নিয়মিত। সত্যিকার অর্থেই বৈচিত্র্যময় তাঁর লেখালেখির ভাণ্ডার।
জিয়াউল হকের জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৩ই এপ্রিল পাবনা জেলার সদর উপজেলার খোঁকড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার পিতা মরহুম হাজি কিয়ামউদ্দিন বিশ্বাস ছিলেন ধর্মভীরু এবং গ্রামের সজ্জন ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। মাতা আজিজা খাতুন। শৈশব থেকেই জিয়াউল হক তার পিতার আদর্শে বড় হতে থাকেন।
বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশক ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ জাগরণের সুবর্ণ সময়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের উপর অল-স্কুল রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করেন জিয়াউল হক। এরপর থেকেই তার লেখালেখির প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা যেমন তার লেখালেখির প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল, তেমনি পাকিস্তানি অবাঙালি শাসকদের শাসনের নামে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের উপর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তার মনকে বিদ্রোহী করে তুলতেও ভূমিকা রেখেছিল। তাই স্কুলে পড়ার সময়েই প্রতিবাদী কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার বিরোধী ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কলেজে পড়ার সময়ে ১৯৭১ সালে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে শত্রুসেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। জিয়াউল হকের মতো আরও অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ শহিদের বুকের এক সাগর রক্ত এবং কমপক্ষে দুই লক্ষ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
দেশ স্বাধীনের পর সামাজিক নানা প্রলোভনকে উপেক্ষা করে বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক আবার লেখাপড়া জীবনে ফিরে যান। পাশাপাশি লেখালেখিও চলতে থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশে তার লেখার বিষয়বস্তুর বেশ পরিবর্তন আসে। তখন তিনি মুক্তিযুদ্ধের সত্য ও বাস্তব ঘটনা নিয়ে কবিতা ও গল্প খেলা শুরু করেন। ‘স্বাধীনতাযুদ্ধে স্মরণীয় ৭২ ঘণ্টা’ শিরোনামের তার একটা লেখা তৎকালীন সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘চিত্র বাংলা’য় ছাপা হওয়ার পর এই বিষয়ের উপর তিনি নিয়মিতভাবে লেখালেখি চালিয়ে যেতে থাকেন এবং তা বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে। ইতোমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতকোত্তর ও পাবনা আমিনউদ্দিন আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে পিএসসির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রথম শ্রেণির সরকারি পদ সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরিতে যোগদান করেন। ৩৩ বছর সরকারি চাকরি শেষে ২০১৬ সালে তিনি জেলা রেজিস্ট্রার পদ হতে অবসর গ্রহণ করেন। বলাবাহুল্য যে, চাকরিজীবনের পুরো সময়টাতে তিনি লেখালেখি করে গেছেন নিয়মিতই। যার ফলশ্রুতিতে চাকরি থেকে অবসরের ৮ মাসের মাথায় ২০১৭ সালের অমর একুশে বইমেলায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জ্যোৎস্নাভরা রাতে’ প্রকাশিত হয়।
প্রথম বই প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি ভ্রমণ বিষয়ক একটা বই লেখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রস্তুতির জন্য ভ্রমণ বিষয়ক বইপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করেন যে, বাজারে বিদেশ ভ্রমণের উপর বেশ কিছু বই পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ ভ্রমণের উপর তেমন উল্লেখযোগ্য কোন বই নেই। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এই বাস্তবতায় তিনি ব্যথিত হন এবং মনে মনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন নয় মাস ধরে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে যে দেশের স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছেন, সেই সুজলা সুফলা সোনার বাংলাদেশকে নিয়েই তিনি তার ভ্রমণের বই লিখবেন। তারপর পুরা বছরব্যাপী পার্বত্য তিন জেলার ২৪টি স্পট ভ্রমণ করে তিনি ‘গিরিঝরনা বাংলাদেশ’ নামে তার ভ্রমণের বই লেখেন। যে বইটি প্রচুর পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর তিনি খুঁজে পান তার শেকড়ের সন্ধান। পরের বছর অর্থাৎ ১৯১৯ সাল থেকে তিনি ধারবাহিকভাবে লেখা শুরু করেন ”শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা” নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সিরিজের বই লেখার কাজ। ২০২৪ সালে তার ”শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা-৬” গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। ”শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা” সিরিজের ৬ খণ্ড মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গ্রন্থে ৬০০ জন জীবিত মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধ দিনের গৌরবময় কাহিনি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। শেকড় থেকে মুক্তিযুদ্ধকে জানার এই প্রক্রিয়া একদিন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখার আকর গ্রন্থ হিসাবে বিবেচিত হবে নিশ্চিতভাবেই।
”রক্তে ভেজা শার্ট” ও ‘একাত্তরের পরি’ তার লেখা মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস দুটি পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতা ও তাদের চরম আত্মত্যাগ দেখে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে এই প্রত্যাশা থেকেই তিনি উপন্যাস দুটি লিখেছেন বলে জানিয়েছেন। ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ইতিহাস’ ও ‘বাংলাদেশের পাহাড়শুমারি’ নামে তার আরও দুটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি মূলত রেলসেতু হওয়ায় ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ইতিহাস” নামের গবেষণা গ্রন্থে রেলের আবিষ্কার, পাক ভারতে ব্রিটিশ শাসন, ব্রিটিশ বাংলায় রেলপথ চালু, ব্রিজ নির্মাণের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় বিস্তারিত ভাবে এই গ্রন্থটিতে তুলে ধরা হয়েছে। ”বাংলাদেশের পাহাড়শুমারি” গ্রন্থটি বাংলাদেশের পাহাড়ের উপর একটি মৌলিক গ্রন্থ। এই গ্রন্থটিতে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, এ অঞ্চলের পাহাড়সমুহের সৃষ্টিকাল, বাংলাদেশের সর্বমোট ২৮২টি পাহাড়ের নাম, তাদের ভৌগোলিক অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনা জলপ্রপাত, হ্রদ, পাহাড়ের পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলা ছড়া, নদী, পাহাড়ের পাশের বিস্তীর্ণ উপত্যকা, উজানভূমি, সংরক্ষিত বন, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ পার্বত্য অঞ্চলের মন মাতাল করা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বলা চলে বইটি পাহাড়ের উপর একটা ইনসাইক্লোপেডিয়া।
শুধু লেখালেখি করেই তিনি নিজের দায়িত্বকে শেষ করেননি। বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং বাংলা ভাষাকে সারা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় বুকে নিয়ে ১৯১৫ সাল থেকে তিনি ঢাকা সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসাবে এর সাথে যুক্ত থেকে কাজ করে গেছেন। সংগঠনের প্রতি তার প্রগাঢ় ভালোবাসা এবং তার লেখা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গবেষণাধর্মী কর্মকে আমলে নিয়ে ২০২০-২০২২ মেয়াদে প্রথম বারের মতো তাকে ঢাকা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচন করা হয়। সফলতার সাথে প্রথম মেয়াদ শেষ করার পর সর্বসম্মতভাবে ২০২২-২০২৪ মেয়াদের জন্য তাকে সভাপতি পদে পুনরায় নির্বাচন করা হয়। এই মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের ১ বছরের মাথায় ব্যক্তিগত কারণে উক্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি প্রগতিশীল সাহিত্য সংঘ নামে নতুন একটি সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি প্রগতিশীল সাহিত্য সংঘের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত আছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হকের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন ছিলেন একজন গৃহিণী। কিছুদিন আগে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরকালে চলে গেছেন। দুই সন্তান ড. শরিফুল হক ও আরিফুল হক লেখাপড়া শেষ করে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। দুই পুত্রবধূ সামিরা খাতুন ও করুণা নাসরিণ, তিন নাতি নাতনি নূরজাহান আল হক, শাহজালাল ই হক ও আহনাফ আহমান আরিয়ানকে নিয়ে তার সুখের সংসার।
অন্য সহযোগী বন্ধুরা যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে এই ৭০ ঊর্ধ্ব বয়সেও পারিবারিক প্রশান্তি বুকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং গবেষণাধর্মী কাজ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অতিসাধারণ জীবনযাপন করা জিয়াউল হক যেন সাধারণ্যে অসাধারণ এক উদাহরণ আমাদের সামনে। অসাধারণ কর্মময় জীবন তাঁর।
তাঁর লিখিত গ্রন্থসমূহের তালিকা :
কাব্য গ্রন্থ :
১। জ্যোৎস্নাভরা রাতে
২। স্মৃতির আকাশে ধ্রুবতারা
ভ্রমণ কাহিনি :
২। গিরিঝরনা বাংলাদেশ
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস :
৩। শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা
৪। শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা-২
৫। শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা-৩
৬। শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা-৪
৭। শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা-৫
৮। শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা-৬
মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস:
৯। রক্তে ভেজা শার্ট
১০। একাত্তরের পরি
গবেষণা গ্রন্থ :
১১। হাডিঞ্জ ব্রিজের ইতিহাস
১২। বাংলাদেশের পাহাড়শুমারি।
পুরস্কার ও স্বীকৃতিসমূহ :
১। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অনন্য অবদান এবং লেখালেখির মাধ্যমে দেশ গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য ২০২৪ সালে কলকাতার সাহিত্য পত্রিকা চোখ গত মাসে তাকে ‘বিজয় স্মারক ১৪৩০’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
২। গবেষণা গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের পাহাড়শুমারি’র জন্য তিনি অন্বয় প্রকাশ সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ অর্জন করেন।
৩। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস লেখায় অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য ‘জয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ’ কর্তৃক প্রদত্ত সম্মাননা স্মারক-২০২১ লাভ করেন।
৪। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গ্রন্থ ”শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা” লেখার পর ২০১৯ সালে প্রথম পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও পাবনা জেলা প্রশাসন তাকে বিশেষ সম্মাননা পুর¯কারে ভূষিত করেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে জিয়াউল হক যে অমূল্য কাজ করে চলেছেন তার জন্য দেশের অনেক বড় সম্মাননা ও স্বীকৃতি তাঁর পাওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।
আগামীতে বাংলাদেশের সকল বড় সম্মাননা বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক অর্জন করুক সেই প্রত্যাশা করি। প্রার্থনা করি, তিনি আরও বহুকাল কর্মময়, আনন্দময় জীবন যাপন করুক। বাতিঘর হয়ে পথ দেখাক, যেন আমরা তাঁর আলোয় গন্তব্য খুঁজে-বুঝে নিতে পারি।
(লেখক : মেহেদী হাসান শোয়েব)



