বৃহস্পতিবার , ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবন -জিয়াউল হক

সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন।
ম্যানগ্রোভ অর্থ লবনাক্ত জলামাটিতে জন্মানো উদ্ভিদ।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের বঙ্গোপসাগর মোহনায়
পদ্মা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র নদী বিধৌত পলল ভূমিতে
গড়ে উঠেছে এই বন।
প্রকৃতি নিজ হাতে গড়ে তুলেছে এই বন।
এ যেন প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়।
প্রচুর পরিমান সুন্দরী গাছ জন্মে বলেই
এই বনকে সুন্দরবন নামে ডাকা হয়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এ্যাডভেঞ্চার, ভয় ও শিহরণে ভরা
সুন্দরবন।
এই বনে সুন্দরীসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ,
রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণসহ ৪২ প্রজাতির প্রাণী,কুমিরসহ ১২০ প্রজাতির মাছ,
২৯০ প্রজাতির পাখিসহ বাস করে নানা রকম জীবজন্তু।জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ কথাটা শুনলেই
ভয়ে বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে।
বুঝা যায় সুন্দরবনের প্রকৃত ভয়াবহতা।
শিবসা পশুরসহ বেশ কয়েকটি নদী
এ বনের ভেতর দিনে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
সাগরের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকায় দিন রাত ২৪ ঘন্টা
এখানে চলে জোয়ার ভাটার খেলা।
জোয়ারের সময় সাগরের লোনা পানিতে বনভূমি প্লাবিত হয়,
আবার ভাটার সময় বনের ভেতরে থই থই কাঁদামাটি
আর গাছের শেকড় জেগে ওঠে।
প্রকৃতির কোমল হাতের ছোঁয়ায় লোনা পানিতে
আপনা আপনিই জন্মায় নানা প্রজাতির বৃক্ষলতা।
সুন্দরবনের বিশাল বেষ্টনি সামুদ্রিক ঝড় ও জলচ্ছাস থেকে
দেশের মূল ভূখন্ডকে রক্ষা করে,
বন থেকে সংগ্রহ করা হয় প্রচুর পরিমান মধু, মোম, কাঠ,
নদী থেকে আহরণ করা হয় প্রচুর পরিমান মাছ, কাঁকড়া,
এ সব কিছুই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে যাচ্ছে।
১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে
প্রাকৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে ঘোষণা করেছে।
তাই বলা যায়
সুন্দরবন,
বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রকৃতির ভালোবাসা অফুরান।
সুন্দরবন,
বাংলাদেশের জন্য প্রকৃতি বয়ে এনেছে কত বড় কল্যাণ।