
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক একজন রণাঙ্গনের সন্মুখযোদ্ধা। তাই তার লেখার প্রিয় বিষয় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। “শত মুক্তিযোদ্ধার বিজয়গাথা” নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সিরিজের তার ৬ খন্ড বই প্রকাশিত হয়েছে, যায় প্রতি খন্ডে ১০০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধদিনের ভয়ঙ্কর অথচ গৌরবময় কাহিনি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস
রক্তেভেজা শার্ট” ও “একাত্তরের পরি” নামে জিয়াউল হকের দুই খানা মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। “রক্তের মূল্যে স্বাধীনতা” নামে আরও একটা উপন্যাস লেখার কাজ শেষ হয়েছে। এই সব উপন্যাসে পাকিস্তানি অবাঙালি শাসকদের শাসনের নামে বাঙালিদের উপর শোষণ ও নির্যাতনের চিত্র, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের শেখ মুজিবের ৬ দফা দাবীনামা পেশ ও ষাটের দশকের বাঙালি জাতিয়তাবাদের আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভ করার পরও তাদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করা, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি সেনাদের বাঙালিদের উপর আক্রমণ, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, প্রবাসি বাংলাদেশ সরকার গঠন, নিজেদের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহিদের বুকের তাজা রক্ত ও ২ লক্ষ মা- বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের দুঃখ, বেদনা ও পারিবারিক টানপোড়নের নানা করুন কাহিনি উঠে এসেছে।
গবেষণা গ্রন্থ
জিয়াউল হকের “হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ইতিহাস” ও “বাংলাদেশের পাহাড়শুনারি” নামে দুটি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং “বাংলাদেশের চা-বাগান” নামের আরও একটা গবেষণা গ্রন্থের কাজ চলমান আছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি শুধু মাত্র রেল চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে রেলের আবিষ্কার থেকে শুরু করে পাক ভারতে ব্রিটিশ শাসন, ভারতে রেলপথ চালু, বাংলায় রেলপথ চালু, পূর্ব বাংলায় রেলপথ চালু, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মানের প্রয়োজনীয়তা এবং এই ব্রিজ তৈরির আদ্যপান্ত এই বইতে বর্ণনা করা হয়েছে। “বাংলাদেশের পাহাড়শুমারি” গ্রন্থে সারা বাংলাদেশের সর্বমোট ২৮২টি পাহাড়ের নাম, তাদের অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরণা, পাহাড়ের পাশ দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলা নদী, ছড়া, হ্রদ, গুহা, পাহাড়ের ঢালের বিস্তীর্ণ সবুজ উপত্যকা, উজানভূমি, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং পাহাড়ের মন মাতাল করা সৌন্দর্যের বিস্তাবিত বর্ণনা করা হয়েছে।
“বাংলাদেশের চা-বাগান” গ্রন্থে চা আবিষ্কারের ইতিহাস, চা গবেষণা, চায়ের বাজারজাত করণের ইতিহাসের পাশাপাশি বাংলাদেশের ১৬৯টি চা বাগানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লেখার কাজ চলমান আছে।
ভ্রমণ কাহিনি
পার্বত্য তিন জেলার ২৪ টা স্পট ঘুরে জিয়াউল হক লিখেছেন “গিরিঝরনা বাংলাদেশ” নামে তার ভ্রমণের বই। এই বইতে রাঙামাটির ফুরামোন মাউন্টেইন, কর্ণফূলি নদী, কাপ্তাই জনবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কাপ্তাই লেক, সুবলং ঝরনা, খাগড়াছড়ির রিছাং তেরাং ঝরনা, আলুটিলা গুহা, পাহাড় কন্যা সাজেক, বান্দরবানের নাফাখুম জলপ্রপাত, রেমাক্রি ফলস, সাঙ্গু রিজার্ভ ফরেস্ট, সাঙ্গু নদী, ডিমপাহাড়, আলীর গুহা, নীলগিরি ও চিম্বুক পাহাড়, বগালেক এবং তার কেওক্রাডং চূড়া বিজয়ের কাহিনি সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন।
কাব্যগ্রন্থ
“জোৎস্নাভরা রাতে” নামে জিয়াউল হকের একটা কাব্যগ্রন্থ পূর্বেই প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “স্মৃতির আকাশে ধ্রুবতারা” প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ, সামাজিক অনাচার, মানবিকতা এবং দেশপ্রেমের উপরই তিনি বেশির ভাগ কবিতা লিখে থাকেন। আমরা জিয়াউল হকের জীবনের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।



